বিশেষ প্রতিবেদন :
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, যার আওতায় দিল্লি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও তেল-গ্যাস কিনবে, যেন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসে।
“তারা আমাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কিনতে যাচ্ছে। তাদের দরকার, আর আমাদের আছে,” ওয়াশিংটনে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিল্লি তেল-গ্যাস বাণিজ্যে নজর দিচ্ছে বলে মোদীও জানিয়েছেন। তিনি পরমাণু শক্তিতে আরও বিনিয়োগের অঙ্গীকারও করেছেন।
বিবিসি লিখেছে, এমন এক সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদাররা মার্কিন বিভিন্ন পণ্যে যত আমদানি শুল্ক ধার্য করেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াশিংটনকেও পাল্টা শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে ছোটখাট বিরোধ থাকলেও গত কয়েক বছরে ট্রাম্প ও মোদী নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
“আমাদের সম্পর্ক দারুণ,” বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে অতিথিকে বরণ করে নেওয়ার সময় বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টও।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি এবং পর্যায়ক্রমে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও সরবরাহ করবে।
দুই নেতার বৈঠকে অভিবাসন প্রসঙ্গও থাকার কথা। ওই এজেন্ডায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাখো নথিপত্রহীন ভারতীয়কে ফিরিয়ে নিতে মোদীকে অনুরোধ করবেন বলে আগেই ধারণা করা হচ্ছিল।
ট্রাম্পের আগে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্কের সঙ্গেও মোদী বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুইজনের মধ্যে মহাকাশ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে কথা হয়েছে।
“ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যে গতিতে কাজ করেছি, এবার তার দ্বিগুণ গতিতে কাজ হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস,” বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে আগে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদেরকে মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর কী পরিমাণ বিস্তৃত নতুন শুল্ক আরোপ করা যায় তা হিসাব করে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব শুল্ক ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমদানি শুল্ক বিবেচনায় নিলে আমাদের মিত্ররা আমাদের শত্রুদের চেয়েও খারাপ। আমাদের জন্য খুবই অন্যায্য ব্যবস্থা চলে আসছে। সবাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুবিধা নিচ্ছে।”
হোয়াইট হাউজ এদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারত ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির কিছু চিত্রও তুলে ধরে।
তাদের নথিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন যেসব দেশকে মোস্ট ফেভারড নেশন (এমএফএন) তকমা দিয়েছে সেসব দেশের কৃষিপণ্যে গড় মার্কিন শুল্ক মাত্র ৫%।
“কিন্তু এমএফএনে ভারতের গড় শুল্ক ৩৯%। যুক্তরাষ্ট্রের মোটর সাইকেলে ভারত ১০০% শুল্কও আরোপ করে রেখেছে, অন্যদিকে তাদের মোটর সাইকেলে আমরা শুল্ক আরোপ করেছি মাত্র ২.৪%,” বলা হয়েছে হোয়াইট হাউজের তথ্য বিবরণীতে।
এভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক বসাতে থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের খরচ বাড়িয়ে তুলবে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার মধ্যে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পও তার শুল্ক নীতির ঝুঁকির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।
“স্বল্প সময়ের জন্য কোথাও কোথাও দাম বেড়ে যেতে পারে, তবে পরে দাম কমে আসবে,” তার নীতি আমেরিকার উৎপাদন বাড়াবে এবং দেশে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে দাবি করে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
Leave a Reply