বিশেষ প্রতিবেদন :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহীন মিয়াকে অপহরণ করে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার সরল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে টিকিট কাউন্টার থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায় তারা। প্রাণভিক্ষা চেয়ে এবং কাউকে না জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
ভুক্তভোগী শাহীন মিয়া জানান, সাইনবোর্ড এলাকায় তিনি বাসের টিকিট বিক্রি করেন এবং সম্প্রতি একটি চায়ের দোকান খোলার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় যুবলীগ নেতা সরল ও তার বাহিনী ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
একপর্যায়ে সরল, তার ভাই নিশাদ, হেলালসহ ৪/৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাকে টেনে হিঁচড়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয় এবং মিতালী মার্কেটের ১ নম্বর ভবনের একটি টর্চার সেলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে লোহার পাইপ ও হকিস্টিক দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, সরল পূর্বে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ছিল এবং আওয়ামী লীগ আমলে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে সরল ও হেলালের সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে সাইনবোর্ড স্ট্যান্ড ও মিতালী মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। চাঁদা না দিলে কেউ ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে না। মার্কেটের একাধিক ভবনে রয়েছে তাদের স্থায়ী টর্চার সেল।
প্রতিবাদ করলে কিংবা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই তাদের ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোজার মধ্যে সরলের নেতৃত্বে মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু ও নেতা টুটুলের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই রহস্যজনক নীরবতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
Leave a Reply