সম্পাদকীয় :
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে যে আন্দোলন শুরু হয় সে আন্দোলন ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।
শুরুতে এ আন্দোলন ছিল দেশের ছাত্রদের কোটা সংস্কার এর আন্দোলন।
১৫ জুলাই সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে রংপুরে আবু সাইদ সহ সারাদেশে মোট ১২ জন খুন হয়। এ ঘটনা গুলো সারাদেশে প্রচারের পর সকল শ্রেণী পেশার মানুষ আন্দোলনের দিকে মনযোগ দিতে থাকে।
দেশপ্রেমিক ছাত্র জনতা মাথায় জাতীয় পতাকা বেধে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে থাকে।
ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ জংশন গুলো দখল নিতে থাকে। তারা জাতীয় সংগীত সহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক সঙ্গীত বাজিয়ে জনগণকে আন্দোলনে আগ্রহী করে তোলে।জনগণ সেচ্ছায় আন্দোলনে অংশ নিতে থাকে।
সরকার পরিচালনাকারী দল আওয়ামীলীগ এ আন্দোলন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সীদ্ধান্ত নেয়। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব আন্দোলন দমনে টিয়ার সেল,রাবার বুলেটের পাশাপাশি তাজা গুলি ব্যাবহার শুরু করে। যার কারণে সারাদেশে হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। হতাহতের এ খবর ফেইসবুক সহ নানা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সরকার বাধ্য হয় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে। কিন্তু সরকারের দমন পীড়ন অব্যাহত থাকে।
আন্দোলনকারীদের সাথে সরকার সবসময় সমঝোতায় আশার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সরকারের কথার সাথে কাজের মিল পায়নি আন্দোলনকারীরা। যার কারণে আন্দোলন কারীদের পক্ষে ১ দফা তথা সরকারের পদত্যাগের দাবি করা হয়।
৩ অগাস্ট সারাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সারাদেশের মানুষ ১ দফার সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে।
৪ অগাস্ট সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
৫ অগাস্ট ঢাকা তথা গনভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়।
৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এ ঘটনা গুলো সবার জানা।
৫ অগাস্ট এর পর সকলের যে বিষয় গুলোর দিকে মনযোগ দেয়া প্রয়োজন ছিল তা হলো:
১. ১৫০০ এর অধিক ছাত্র জনতা হত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাস দমন আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দায়ী সকল ব্যাক্তীকে বিচারের আওতায় আনা।
২. দেশের মানুষকে গনতান্ত্রিক সরকার পরিচালনা করার সুযোগ করে দিতে একটা নির্বাচন এর আয়োজন করা।
৩. আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনী গুলোকে জবাব দিহিতার আওতায় আনা।
এ সব না করে আন্দোলনকারীরা কি করলো:
১. কোন দল বা কোন পক্ষ বেশি আন্দোলন করছে এ নিয়ে নিজেদের মাজে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
২. একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল দেশের জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, এমনকি দেশের নাম পর্যন্ত পাল্টে দেয়ার কথা বলতে থাকে। এতে চরমভাবে আন্দোলন কারীদের মাঝে বিভেদ ছড়িয়ে পড়ে।
৩. আন্দোলন কারীদের একটা অংশ সরকারের অংশ হয়ে সংস্কারের নাটক শুরু করে। যদিও গত ৭ মাসে একটা সংস্কার ও করতে পারে নাই।
৪. সেনাবাহিনী ও দেশের একটা সুবিধাবাদী অংশ যখন দেখল আন্দোলন কারীরা নানা মতে বিভক্ত। তখন তারা এ সুযোগে ক্ষমতাকে যতদিন ধরে রাখা যায় সে পথে হাটছে।
বর্তমানে দেশের অবস্থা যে লাউ সেই কদু।
তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলনকারী সকল রাজনৈতিক দল গুলোকে একমত হতে হবে।
অবশ্যই গণহত্যা পরিচালনাকারী দল আওয়ামীলীগ ও তার সকল সহযোগী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।।
Leave a Reply